গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা থেকে কোরবানির হাটের জন্য কেনা আটটি গরু ছিনতাইয়ের ঘটনায় গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে সাতটি জীবিত গরু ও একটি জবাইকৃত গরুর মাংস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলো গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নস মিয়ার মালিকানাধীন ভাড়া দেওয়া একটি মাংসের দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার বরাতখালী গরুর হাট থেকে আটটি গরু কিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেন কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী। গত শনিবার দিবাগত ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তারা গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে একটি হাইএস মাইক্রোবাস দিয়ে তাদের গতিরোধ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে গরু ব্যবসায়ী ও পিকআপচালককে মারধর করে। পরে তাদের হাত-পা বেঁধে পাশের জঙ্গলে ফেলে রেখে পিকআপে থাকা আটটি গরু নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী গরু ব্যবসায়ীরা জানান, “নাওজর এলাকায় একটি গাড়ি সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। আমাদের বেঁধে মারধর করে গরুগুলো নিয়ে যায়।” পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পরে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে গাজীপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নস মিয়ার মালিকানাধীন ভাড়া দেওয়া একটি মাংসের দোকান থেকে সাতটি জীবিত গরু ও একটি জবাইকৃত গরুর মাংস উদ্ধার করা হয়।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নস মিয়ার মালিকানাধীন ওই দোকানে দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের বাজারের তুলনায় প্রতি কেজি মাংস প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা কম দামে বিক্রি করা হতো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা আলোচনা ছিল। স্থানীয় কয়েকজন মাংস ব্যবসায়ী দাবি করেন, “বাজারদরের চেয়ে এত কম দামে মাংস বিক্রি করা স্বাভাবিক নয়। বৈধভাবে পশু কিনে এভাবে কম দামে বিক্রি সম্ভব না।”
তবে এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নস মিয়া বলেন, “মাংসের দোকানটি আমার ইলেকট্রনিক্স দোকানের সামনে। আমি এই মাংসের দোকানটি ভাড়া দিয়েছি। মহাসড়কের পাশে যেসব দোকানপাট রয়েছে সেগুলোর সামনের পজিশন সবাই ভাড়া দেয়, সে হিসেবে আমিও ভাড়া দিয়েছি। তবে, ভাড়ার টাকা আমি নেইনা, আমার বাবা এই টাকা নেন। ডাকাতি করে গরু এনে গরু জবাই করার বিষয়ে পুলিশ আসার পর শুনেছি। কিন্তু এভাবে প্রতিনিয়ত চুরি বা ডাকাতি করে গুরু এনে জবাই করার বিষয়ে আমার জানা নেই।”
কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর জানান, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গরু ও আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য জিএমপি’র বাসন থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জিএমপির বাসন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সেলিম জানান, গত শনিবারে সাতটি গরু এবং এঘটনায় জরিত চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বাসন থানায় একটি ডাকাতি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং এঘটনায় চারজন আসামি গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।