শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক নারীসহ দুই জনের নামে শিশুর নানী বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় অপহরণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের সোনার গ্রামের শাহিদের স্ত্রী এবং শিশুর নানী রাহিমা খাতুন দুজনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের নামে শিশু অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের শিমুলতলা (ঢালিপাড়া) গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে মরিয়ম আকতার হেমা (৩০) এবং তার ভাই নাজমুল (২৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অপহরণের শিকার শিশুটির নাম রিয়া খান(৭)।১৫ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাওনা চৌরাস্তা কাজী পাম্প সংলগ্ন একটি শপিংমলে নানীর সঙ্গে কেনাকাটা করতে বের হয়। বিবাদী রহিমা তার নাতনি হযরত আলী, ইউসুফ মিয়া ও রিয়া খানকে নিয়ে কেনাকাটার সময় অভিযুক্ত মরিয়ম আক্তার হেমা রিয়া খানকে জোরপূর্বক তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে আসে। পরে স্থানীয় জনতা শিশুটিকে উদ্ধার করে নানীর কাছে ফিরিয়ে দেয়।
মামলার বাদী শিশুর নানী রহিমা জানান, আমি আমার তিন নাতী-নাত্নীকে নিয়ে কেনাকাটা করার জন্য বের হলে মাওনা চৌরাস্তার কাজী পাম্প সংলগ্ন এলাকায় যেতেই বিবাদী তার আরোও কয়েকজন সহযোগীদের নিয়ে আমার নাত্নী রিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে ফেলে। পরে রিয়ার ডাক চিৎকারে স্থানীয়দের সহযোগীতায় উদ্ধার করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে। এরই মধ্যে অভিযুক্ত মরিয়ম আক্তার হেমা ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ পরিদর্শক তাজুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ কল করার পর আমরা ওইখানে যায়। ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। আশপাশের লোকজন এবং দোকানদারকে
জিজ্ঞেস করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ জানান, অপহরণের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। অপহরণকারী মরিয়ম আক্তার হেমা গ্রেপ্তার আছে। তাকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে গাজীপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।